ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে তিন বছর আগে দাফন করা এক ব্যক্তির কবর থেকে অবশিষ্টাংশ (হাড়-গোড় ও মাটি) তুলে অন্য একটি গোরস্থানে স্থানান্তর করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চরধমপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী হেফাজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর গ্রামের নিজ বাড়ির মধ্যে দাফন করা হয়েছিল তাঁকে।
গত ২৭ জুলাই ভোলাহাটের পুরনো কবর থেকে তার দেহাবশেষ সংগ্রহ করে রাজশাহীর টিকাপাড়া গোরস্থানে নিয়ে পুনঃদাফন (স্থানান্তর) করা হয়। বাবার কবরের যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত জিয়ারত এবং স্মৃতি সংরক্ষণের সুবিধার্থে পারিবারিক সিদ্ধান্তে মরদেহ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী হেফাজ উদ্দিন ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ ভোলাহাট উপজেলার চরধমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির ভেতরে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁর উত্তরাধিকারীরা গ্রামের বাড়িসহ যাবতীয় সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। মৃত্যু ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা ঢাকায় কর্মরত এবং রাজশাহীতে বসবাস করায় গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কবরের নিয়মিত পরিচর্যা, জিয়ারত ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে নানা ধরনের অসুবিধা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে পারিবারিক ভাবে আলোচনা করে হেফাজ উদ্দিনের দুই ছেলে আসকার ইবনে সায়িখ ও শের মোহাম্মদ তৌফিক (তানভির) বাবার মরদেহ গ্রামের কবর থেকে চলতি বছরের ২৭ জুলাই স্থানান্তর করে রাজশাহীর টিকাপাড়া কবরস্থানে পুনরায় দাফন করার বিষয়ে নিশ্চিত করে পরিবারের লোকজন।
তারা আরো জানায়, বাবার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর কবরের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতেই মরদেহ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে পরিবারের সদস্যদের বসবাস হওয়ায় সেখানে নিয়মিত কবর জিয়ারত ও দেখভাল করাও সহজ হবে।
এদিকে, মরদেহ স্থানান্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।স্থানীয় স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাইনুল ইসলাম জানান, জায়গা-জমি বিক্রি করে দেওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিতভাবে এখানে আসা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে তাঁরা তাঁদের বাবার কবর জিয়ারত ও নিয়মিত দেখভালও করতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সুবিধা এবং বাবার কবরের দেখভালের বিষয়টি বিবেচনা করেই মরদেহ নিয়ে গেছেন।
প্রতিবেশী মোছা. নাসিমা বেগম বলেন, হেফাজ উদ্দিনের সন্তানেরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করে এবং স্থানীয় ভাবে রাজশাহীতে পরিবার নিয়ে থেকেন। এখানে বাড়ির মধ্যে কবর ছিল। কবরটা উঠিয়ে রাজশাহী নিয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সাদিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের কাছ থেকে শুনেছি হেফজ উদ্দিনের সন্তানেরা এসে কবর থেকে লাশ উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। ভোলাহাট সরদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ পিয়ার জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি শুনে সেখানে যায় এবং স্থানীয় জনসাধারণের কাছ থেকে শুনে লাশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।