• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline
​ভোলাহাটে চামুশা সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ ইসকাপ জব্দ সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ভোলাহাটে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণে প্রেস কনফারেন্স ভোলাহাট থেকে তিন বছর পর মরদেহ স্থানান্তর নব্য আবু জেহেলের আবির্ভাব আল্লাহর বিধানকে লংঘন ভোলাহাট জামবাড়িয়ায় ধসে পড়া ব্রিজ পরিদর্শনে ইউএনও, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস শিবগঞ্জের দাইপুখুরিয়ায় শিশুকে হত্যার চেষ্টা, বাবা আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য এফএও প্রতিনিধি দলের ভোলাহাট সফর: আম খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় অবশেষে সেই বাবুল নামেই মিলল পরিবারের সন্ধান! স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলো মরদেহ! চাঁপাইনবাবগঞ্জে বনলতা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রির দাবি তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে সেই সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরেই সামনে আসছে জমি বিক্রির অর্থ, অন্যান্য সম্পদের আয়, চিকিৎসার ব্যয় এবং জমি হস্তান্তরের দলিল নিয়ে নানা প্রশ্ন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কর্ণখালী-ফতেপুর গ্রামের আফজাল হোসেনকে ঘিরে পারিবারিক বিরোধ এখন অর্থ ও জমির হিসাবের প্রশ্নেও আলোচনায়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, জামাই ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন এবং জমি বিক্রি করে পাওয়া গেছে ২৭ লাখ টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল অর্থের কতটা চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে, আর অবশিষ্ট অর্থ কোথায়? চিকিৎসার ব্যয়ের হিসাব ও অর্থ লেনদেনের নথি প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে মোটরসাইকেল বিক্রি, দুই বছরের জন্য লাখ লাখ টাকায় বাগান বিক্রি এবং প্রায় ১২ বিঘা জমি টেন্ডারে দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয়। পাশাপাশি দুই মেয়ে রেহেনা খাতুন পপি ও মাহমুদা খাতুন লিপির নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি দলিল করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব সম্পদ ও আয়ের বিপরীতে চিকিৎসার জন্য আবার জমি বিক্রির প্রয়োজনীয়তা কতটা—তা নিয়েও স্বচ্ছ হিসাবের দাবি উঠছে।
জমি হস্তান্তরের দলিলের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখের দলিল নং ১৯৫৮ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রেহেনা পারভীন পপি ও মাহমুদা খাতুন লিপির নামে হেবা দলিল নং ২৭৯৬ এখন জমি নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো একদম বেমালুম এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
আফজাল হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাসের দাবি, বাবার ১৮ মাসের ক্যান্সার চিকিৎসার মধ্যে ১৪–১৫ মাস তিনিই দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই ১৫ মাসে ১৫ টাকারও কোনো সম্পদ নষ্ট করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে মাহমুদা খাতুন লিপি ও রেহেনা পারভিন পপি বাবাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসার পর মাত্র তিন-চার মাসেই কেন একের পর এক সম্পদ বিক্রির হিড়িক পড়ে গেল? অথচ এর বিপরীতে বাবার সুচিকিৎসা করা হচ্ছে না।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—জমি বিক্রির ২৭ লাখ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে? জামাইয়ের দেওয়া ৫ লাখ টাকার দাবির পক্ষে কী নথি রয়েছে? মোটরসাইকেল, বাগান ও জমি থেকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব কী? দুই মেয়ের নামে জমি দলিল, দখল হস্তান্তর এবং চিকিৎসার ব্যয়ের মধ্যে প্রকৃত যোগসূত্র কী?
এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ জবাব পেতে প্রয়োজন জমির দলিল, অর্থ লেনদেনের হিসাব, টেন্ডার ও বাগান বিক্রির নথি এবং চিকিৎসার ব্যয়ের প্রমাণ। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার নামে সম্পদ বিক্রির দাবি উঠলে সেই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category