স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা) সংসদীয় আসনের ১১ দলের মনোনীত এমপি প্রার্থী জামায়াতের ড. মুঃ মিজানুর রহমান নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সংসদীয় আসনে মোট ৫জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ড. মু: মিজানুর রহমান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রহনপুর উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক ইয়াহ্ইয়া খালেদ, গোমস্তাপুর উপজেলা আমীর ইমামুল হোদা, নাচোল উপজেলা আমীর প্রভাষক ইয়াকুব আলী, নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য তরিকুল ইসলাম বকুল, নাচোল পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম।
তিনি এলাকাকে একটি আধুনিক, সন্ত্রাসমুক্ত এবং উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪২টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও সুশাসন
ড.মু. মিজানুর রহমান তার ইশতেহারে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকুমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতি বন্ধ করে নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইশতেহারে বলা হয়েছে:
নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট সব কাঁচা রাস্তা পাকা করা। রহনপুর থেকে ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং রেল বন্দর স্থাপন। ভোলাহাট হতে নাচোল পর্যন্ত রেললাইনের পাশে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ। মহানন্দা ও পূনর্ভবা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়তে আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই প্রার্থী।
কৃষি ও চিকিৎসাসেবা
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের জন্য আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে হিমাগার স্থাপন এবং সার-বীজ সংকট নিরসনের কথা ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আধুনিকায়ন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নারী ও ধর্মীয় অধিকার
নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং বিধবা ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও হিন্দু, বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
বিনোদন ও পর্যটন
রামদাস বিলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম ও শিশু পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ড. মু. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি এই জনপদের সন্তান। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে আমি এই অবহেলিত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই। বিজয়ী হলে আমার এই ইশতেহারের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমি সচেষ্ট থাকব।”