স্টাফ রিপোর্টার:
প্রতিবেশি রিয়াজুলের সাথে চুক্তির মাধ্যমে একটি চক্র ভিকটিম সোহেলকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে মোট ২৩ লাখ টাকা নিয়ে ভিকটিমকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে গিয়ে অপহরণকারীদের নিকট বিক্রি করে দেয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অপহরণকারীরা বিভিন্ন অজুহাতে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রী উর্মি বেগম বাদী হয়ে রিয়াজুলসহ এজাহারনামীয় ১১ জন এবং ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা নং-০৭, তারিখ ০৬/০৪/২০২৬, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এর ৬/৭/২২/২৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) গত ০৬/০৪/২৬ খ্রি. তারিখে স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পিবিআই কর্তৃক গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মামলার এজাহারনামীয় আসামী টিটু মীর ও রহিমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন বার্তা, ভয়েস কল ও লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বাদীর নিকট মুক্তিপণের টাকা দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রদান, বিদেশে অবস্থানরত রিয়াজুলের নির্দেশনা এবং আলাউদ্দিন ও হিমেলের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও গোয়েন্দা তথ্য ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকা হতে আসামী ইসমাইল দেওয়ানকে আটক করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানব পাচার চক্রের ব্যবহৃত একাধিক ব্যাংক হিসাব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সহায়তায় ফ্রিজ করা হয়েছে। পিবিআই’র ধারাবাহিক অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রমের ফলে চক্রটির সদস্যরা চাপে পড়ে লিবিয়ায় অবস্থানরত ভিকটিম সোহেলকে ত্রিপলীর একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় তিনি নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পিবিআই, ইউএনওডিসি, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম (ইউএন মাইগ্রেশন)-এর সমন্বয়ে ভিকটিমকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। গত ০৩ মে ২০২৬ তারিখে তাকে লিবিয়ার ত্রিপলীতে আইওএম-এর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে ভিকটিম সোহেলকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিবিআই হেফাজতে গ্রহণ করে। তিনি ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
আসামী রহিমা বেগম বিজ্ঞ আদালতে 164 ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেছে। মানব পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতার এবং অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক উদঘাটনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মামলাটির তদন্ত চলমান।