স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে শাহ আলম নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার সংসারদীঘি মধ্যপাড়া এলাকার আবু সাইদের ছেলে শাহীন শেখ সায়েম (৩২) এবং একই উপজেলার সংসারদীঘি দোবিলা এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী আরিফা বেগম (৩২)।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মোঃ শাহীনুজ্জামান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান,, গত ১৬ মে সকাল ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামে ফসলি মাঠে আবুল কাশেমের বর্গাচাষ করা ধানখেতে শাহ আলমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সংসারদীঘি গ্রাম থেকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি শাহীন জানান, নিহত শাহ আলমের ভাবি আরিফা বেগমের সঙ্গে শাহীন শেখ সায়েমের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। আরিফার স্বামী কাজের কারণে বাড়ির বাইরে থাকায় রাতে গোপনে তাঁর বাড়িতে যাতায়াত করতেন শাহীন। বিষয়টি জানতে পেরে শাহ আলম আগে থেকেই ভাবিকে সতর্ক করেছিলেন। গত ১৫ মে রাতে শাহীন শেখ সায়েম আরিফা বেগমের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে বিষয়টি টের পেয়ে শাহ আলম হাতে হাসুয়া নিয়ে বাড়ির আঙিনায় ঘোরাফেরা করতে থাকেন। পরে আরিফা বেগম বাড়ির পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে শাহীনকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলম তাঁদের একসঙ্গে দেখে ফেলেন। পরে শাহীন পালানোর চেষ্টা করলে শাহ আলম হাসুয়া নিয়ে তাঁকে ধাওয়া করেন।
ওসি আরও জানান, ধাওয়া করতে গিয়ে ধানখেতে শাহীন পড়ে যান। এ সময় শাহ আলম হাসুয়া দিয়ে তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করলে শাহীন তাঁর হাত থেকে হাসুয়া কেড়ে নেন। পরে শাহ আলমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়।
ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।