• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
Headline
ভোলাহাটে কৃষক কার্ড বিতরণের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন কোটি টাকা আত্মসাতের অ’ভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুজনের বিরুদ্ধে। ভোলাহাটে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণের শুভ উদ্বোধন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী? একমাত্র ছেলেকে দূরে রাখার অভিযোগে বাড়ছে প্রশ্ন ভোলাহাটে অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যান বিতরণ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর অভিযানে হেরোইন উদ্ধার। ০১ (এক) জন আসামী গ্রেফতার। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর অভিযানে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার। ০২ (দু্ই) জন আসামী গ্রেফতার। অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডির চলমান অভিযানে গ্রেফতার আরও ০৩ সদস্য। নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ০৫ (পাঁচ) গ্রাম অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন সহ ০১ জন মাদক কারবারী গ্রেফতার। পাবনা সদর থানা পুলিশের চলমান অভিযান পরিচালনা করে সাজাপ্রাপ্ত, সাধারণ ওয়ারেন্ট ভুক্ত এবং মাদক কারবারি সহ ১৬জন গ্রেফতার।

ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী? একমাত্র ছেলেকে দূরে রাখার অভিযোগে বাড়ছে প্রশ্ন

Reporter Name / ২৯৫ Time View
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
একজন ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধ আফজাল হোসেন। দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ মাস ধরে চিকিৎসা, হাসপাতাল, ওষুধপত্র এবং সার্বক্ষণিক সেবাযত্নে ছিলেন তাঁর একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাস। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই ছেলেকে বাবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় সম্পত্তি হস্তান্তর, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং পারিবারিক উত্তেজনা।
প্রশ্ন উঠেছে—এই বিরোধের প্রকৃত কারণ কী?
প্রতিবেদকের হাতে থাকা চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দেওয়া আবেদনপত্র এবং সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ক্যান্সারে আক্রান্ত আফজাল হোসেনের সম্পত্তি।
জানা যায়, আফজাল হোসেনের তিন সন্তান। একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান প্রায় ২০ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আফজাল হোসেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার প্রায় পুরো সময় জুড়েই ছেলে আসাদুজ্জামান তাঁর পাশে ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধপত্র, যাতায়াত এবং চিকিৎসার পরীক্ষা-নিরীক্ষার বড় অংশ এর ব্যয় তার ছেলেই বহন করেছেন বলে তাঁদের দাবি। এমনকি এসব বিষয় খোদ আফজাল হোসেনও স্বীকার করেছেন।
কিন্তু মাস দেড়েক আগে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আফজাল হোসেনকে ধীরে ধীরে তাঁর একমাত্র ছেলের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকেই সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথিতে দেখা যায়, এ পরিস্থিতি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আবেদনকারী পক্ষের আশঙ্কা, আফজাল হোসেনের বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁর নামে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিবেদকের হাতে থাকা চিকিৎসকের সনদে উল্লেখ রয়েছে যে আফজাল হোসেনের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি, বিচার-বিবেচনা ও জটিল বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিকিৎসকের পেশাগত মতামত উল্লেখ করেছেন ।
এই নথির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে—এ অবস্থায় তাঁর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর বা তাঁর বক্তব্য কতটা স্বাধীনভাবে দেওয়া হচ্ছে?
সরেজমিনে কথা বলা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা মনে করেন, বর্তমান বিরোধের মূল কারণ পারিবারিক সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ। তাঁদের ভাষ্য, একমাত্র ছেলে দীর্ঘদিন বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ায় পারিবারিক ভারসাম্যে সামাজিকতা ও স্বাভাবিকতা আসে কিন্তু এতে অন্য একটি পক্ষের ব্যাপক মাথাব্যথা শুরু হয় এবং এরপর থেকেই দ্বন্দ্ব প্রকট হতে থাকে। যার প্রেক্ষিতে পুত্রকে কিভাবে পিতার কাছ থেকে দূরে সরাবে এমন ছক আঁকা হয়। অযৌক্তিক অকারণে পুত্রকে পিতার কাছ থেকে দূরে রেখে ওই বিরোধী চক্রটি নানা অন্যায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে এমনকি প্রায় ১০ বিঘা জমি সাথে খোদ বসতভিটা পর্যন্ত তারা নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে গেছে। বাকি পুরো সম্পত্তি এখন নেওয়ার জন্য পায়তারা করছে।
এসব ব্যাপারে আসাদুজ্জামানের বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “সম্পত্তি আমার বাবার কিন্তু বাবা আমার। তাই সম্পত্তির বিষয়ে আমার বাবা কি করবে সেটা একান্তই তাঁর ব্যাপার, এ ব্যাপারে কখনোই আমার কোন আগ্রহ নেই কিন্তু আমার বাবাকে যারা আমার কাছ থেকে দূরে রেখেছে তাদের ব্যাপারে আমার মনে কষ্ট রয়েছে। আমার বাবাকে আমার কাছে পাওয়ার জন্য তার সাথে আমার স্বাভাবিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য আমি সকলের কাছে অনুরোধ করছি।
তিনি আরো দাবি করেন, আমার বাবাকে ওই চক্রটি জিম্মি করে বিভিন্ন কথা বলছেন এবং বাবাকে দিয়েও বিভিন্ন অন্যায় কাজ করিয়ে নিচ্ছেন কিন্তু আমার বাবা প্রকৃত অর্থে আমাকে খুব ভালোবাসেন এবং ছেলে হিসাবে আমার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা রয়েছে। ঠিক তেমনি বাবাকেও আমি সর্বোচ্চভাবে শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসি। বাবার সামগ্রিক আশা আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষিতেই মূলত একজন সচেতন ছেলে হিসেবে আমার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা। কিন্তু ওই চক্রটি বাবার অসুস্থতার সুযোগে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের নিমিত্বে ছিনিমিনি খেলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি বাবার নিরাপত্তা ও এই অবস্থা থেকে আমার অসুস্থ বাবাকে মুক্তি দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্থানীয়দের মতে, এই বিরোধের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাঁদের ভাষায়, এটি কেবল একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়; একজন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা, অধিকার, সম্পত্তি এবং অসুস্থ ব্যক্তির নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত।
বর্তমানে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনায় চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে নথিপত্র, চিকিৎসকের মতামত এবং স্থানীয়দের বক্তব্য মিলিয়ে একটি প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত—দীর্ঘদিন বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করা একমাত্র ছেলেকে কেন হঠাৎ বাবার কাছ থেকে দূরে রাখা হলো, এবং এরপরই কেন সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়ে উঠল?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category